স্যামুয়েল খারাপ লোক হলেও তা টাকা নেওয়ার ছাড়পত্র হতে পারে না: কোর্ট

স্যামুয়েল খারাপ লোক হলেও তা টাকা নেওয়ার ছাড়পত্র হতে পারে না: কোর্ট

Political News 0 Comment 22

নারদ মামলা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্য ৷ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে নারদ স্টিং কাণ্ডের জনস্বার্থ মামলায় এদিন ফের প্রধান বিচারপতির প্রশ্নের মুখে রাজ্যের ভূমিকা ৷ নারদ মামলায় ভিডিও ফুটেজেই গুরুত্ব দিচ্ছে আদালত ৷ একইসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এদিন আদালত জানিয়ে দেয়, স্যামুয়েল খারাপ লোক হলেও তা কখনই টাকা নেওয়ার কারণ হতে পারে না ৷
নারদ মামলায় রাজ্য বারবার নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের উদ্দেশ্য ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ৷ ভিডিও ফুটেজে দেখানো দৃশ্যের আসল সত্য জানার বদলে ম্যাথু স্যামুয়েলের টাকার উৎস ও কোন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, সেই তথ্যই বার বার কোর্টকে জানাতে উদগ্রীব হয়েছে অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্র ৷ এদিনের শুনানিতে সেই বক্তব্য খারিজ করে প্রধান বিচারপতি নিশীতা মাত্রের মন্তব্য, ‘স্যামুয়েল খারাপ মানুষ হতেই পারেন কিন্তু এভাবে টাকা নেওয়ার ছাড়পত্র কাউকে দেওয়া হয়নি ৷ এই মুহূর্তে স্যামুয়েল নিয়ে ভাবছি না ৷ আমরা দেখব, ভিডিওয় কী দেখাচ্ছে ৷’
একইসঙ্গে এদিন আবারও ভিডিও ফুটেজের সত্যতা জানতে স্বাধীন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানোর কথা বলল আদালত ৷ গত ৫ জানুয়ারি শুনানি চলাকালীন অ্যাডভোকেট জেনারেলের মন্তব্য করেন,‘স্টিংয়ে দেখানো লেনদেন অসম্পূর্ণ ৷ স্টিংয়ে দেখানো লেনদেন গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ কিনা ৷ সেই বিচার আগে করুক আদালত ৷ নারদকাণ্ডে গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ হলে, আদালত যেকোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে ৷’ এই শুনানি পর্বের পর আরও একবার ঘুরপথে নারদ স্টিং ফুটেজের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ৷ সেসময় রাজ্য পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কোর্ট স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে তদন্ত চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে ৷
বিচারপতি নিশীতা মাত্রে বলেন, ‘নারদ ফুটেজে দেখে কেন স্বতঃস্ফূর্ত পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ? ফুটেজ দেখে পুলিশ রিপোর্ট দিতে পারত আদালতে ৷ কিন্তু পুলিশ তা করেনি ৷’ এতেই অস্থায়ী বিচারপতি নিশীতা মাত্রের প্রশ্ন, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে কে? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলে নিরপেক্ষ সংস্থা দরকার ৷ রাজ্য পুলিশের পক্ষে এ দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয় ৷’ এদিন আবারও রাজ্যকে প্রধান বিচারপতি নিশীতা মাত্রে প্রশ্ন করেন, ‘নারদকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করার কথা বলেছে রাজ্যই ৷ আদালতও সেই কথাই বলছে ৷ রাজ্যের কোনও সংস্থা তদন্ত করতে পারলে, কোনও স্বাধীন সংস্থা তদন্ত করলে ভুল কী?’
এতেই স্পষ্ট স্টিংকাণ্ডে টাকা দেওয়া-নেওয়ার ফুটেজের আসল রহস্য জানতেই উদগ্রীব এবং সচেষ্ট আদালত ৷
২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে ঝড় তোলে নারদ ডট কমের প্রকাশিত ৫৭ ঘণ্টার ফুটেজ ৷ তাতে বিভিন্ন নেতা ও মন্ত্রীদের যে টাকা আদানপ্রদানের ফুটেজ দেখা যায় ৷ দক্ষিণের সংবাদ সংস্থা নারদ ডট কম দাবি করেন, এই ভিডিও একদম খাঁটি ৷ ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই স্টিং অপারেশনটি তারা করেছিলেন বলে দাবি করেন সংস্থার কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েল ৷
প্রথম থেকেই এই স্টিংকাণ্ডকে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করে আসছে শাসক দল ৷ গত মার্চ ১৪, নির্বাচনের প্রথম দফার বিজ্ঞপ্তি জারির দিন বিজেপি পার্টি অফিসে শাসক দল তৃণমূলের ১১ জন শীর্ষ নেতা- নেত্রীদের ঘুষ নেওয়ার বিস্ফোরক ক্লিপটি দেখানোর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল ৷ এই ক্লিপ নিয়েই ভোটের আগে তৈরি হয় প্রবল বিতর্ক ৷ শাসক দলের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানান বিরোধীরা ৷

– ই টিভি বাংলা (১২-০১-২০১৭)

Leave a comment

Back to Top